Saturday, November 21, 2015

চোখের শেষ জলকনা

গলির এক ধারে দাড়িয়ে কোনাকোনি উপরে তাকালেই নিশির ঘরের বারান্দা, এখানেই সম্পর্কের সময়কালে অঞ্জন নিশি কে দেখতো।
সম্পর্কের নি:শেষ হবার পর অঞ্জন কে মাঝে মাঝে গলির পাশে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে থাকে, একবার নিশির মুখখানা দেখার জন্য।
এই বুঝি এল
এই বুঝি এল
বেচারা অঞ্জন দেখা পায়নি একদিন ও, একটু সামনে,একবার পিছনে করে লোকজনেও দৃষ্টি এরিয়ে যায়। কিন্তু নিশি নেই। বার বার ফোনের দিকে তাকায় অঞ্জন, সে সময় হয়তো মোবাইল এ কথা অথবা চ্যাটিং নিয়ে ব্যাস্ত নিশি।
একবার ও কি মনে হয় না, কেউ তার জন্য অপেক্ষা করছে,একটিবার দেখার জন্য, মনে মনে  বলতে থাকে অঞ্জন।
রাতে লিখতে বসে অঞ্জন, নিশির দেয়া ডায়েরী তে আজ লিখবে,ইচ্ছা মত বকা দিবে,অভিমান প্রকাশ করবে। কিন্তু একটি লাইন ও লিখতে পারে না সে, ডায়েরীর পাতা গুলো এখনও স্নিগ্ধই রয়ে গেছে।
ভাবতে ভাবতে সাদা রুমালখানা ভিজে যায় চোখের জলে।
রুমালখানাও নিশির দেয়া,তার হাতের স্পর্শ আজো পেলো অঞ্জন।
এক কিশোরী বয়সের নিশির দেয়া চিঠি গুলো পরতে থাকে অঞ্জন আর মুখের কোনে বিন্দু বিন্দু হাসি। আযান এর শব্দে আবার বিমর্ষ হয়ে যায় অঞ্জন,হয়তো হারিয়ে গিয়েছিল বছর ২ এক আগে।
এভাবেই কয়েকদিন...........
অত:পর আর নিশির বাসার আশে পাশে অঞ্জন কে আর ঘুর ঘুর করে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় না।
অঞ্জন আজ নিজের কাছ থেকে পালিয়ে থাকে,নয়তো পাসপোর্ট সাইজের নিশির ছবিটা যখন তখন চোখে  জল এনে দেয়।
এসব আকড়ে ধরে থাকার মানেই হয় না মনে হতেই পরক্ষনে মায়াবী চেহারা মাখা ছবিটা অঞ্জনের কাছে থেকে যেতেই চায় না। চোখের শেষ বিন্দু এখানেই শেষ নয় অঞ্জনের .....
অঞ্জনের লেখা অভিমানের একটি চিঠি:
প্রিয় নিশি,
বিরক্ত করতে চাই না তবুও সংক্ষেপে বলছি, আংটি টা আর পরা হয় না। মানিব্যাগ টাও মনে হয় আর বেশি দিন থাকবে না,তবুও চেষ্টা করছি ভাল রাখার। রাগ লাগছে? লাগুক এর থেকে হাজার গুন কষ্ট আমি ভোগ করেছি। আর হ্যা ভাল আছ মনে হয়, আমি ভাল নেই...:(
দোয়া করো যেকোন একটা চাকুরী পেলে আমার আর হাতখরচ বাবার কাছে থেকে নিতে হবে না। আমি তোমাকে বুঝতে পারলাম না আজো............
চিঠি টা আসমাপ্ত রেখেই ঘুমিয়ে গেল অঞ্জন, এরকম অনেক লেখা তার গন্তব্যস্থল পেল না।
সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না।সব হারিয়ে যায়, স্মৃতি গুলোও একসময় তলিয়ে যাবে হয়তো, এর মাঝেই যুদ্ধ চলছে বেচে থাকার, সময় গুলো মনে রাখার।